Kaspersky APAC

ঢাকা থেকে কিভাবে সহজে এবং কম খরচে দার্জিলিং যাবেন

 

ভারতের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হচ্ছে দার্জিলিং। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার পর্যটক আসেন দার্জিলিং এর অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে। দার্জিলিংকে ডাকা হয় পাহাড়ের কুইন নামে। উপরে মাউন্ট কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং চারপাশে পাহাড়ে বেষ্টন করা চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মত একটি দর্শনীয় স্থান এটি।

অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর পর্যটক দার্জিলিং ভ্রমণে যায় এবং অনেকে যেতে চায়। যারা বাংলাদেশ বা ঢাকা থেকে দার্জিলিং যেতে আগ্রহী তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি উপকারে আসতে পারে। আজকে আমরা উপস্থাপন করব কিভাবে কম খরচে ঢাকা থেকে দার্জিলিং যেতে পারবেন।

যারা ভাবেন দার্জিলিং ভ্রমণে অনেক টাকা লাগে তাদের বলব আপনাদের ধারণা ভুল। চলুন একজন পর্যটকের অভিজ্ঞতার আলোকে বিস্তারিত গাইডলাইন তুলে ধরা যাক। 



ঢাকা থেকে বেশির ভাগ গাড়ি রাত ৮ টায় বুড়িমারীর দিকে যায়। বুড়িমারী সীমান্তে পৌছাতে পৌছাতে সকাল ৬ টা থেকে ৭ টা বেজে যাবে। সেখানে আপনি সকালের নাস্তা করে ফেলুন। এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পন্ন করুন। এখান থেকে আপনি চ্যাংড়াবান্ধা যাবেন। পায়ে হেটে কিছু দূর গেলেই বাস পাবেন।

আপনার এবারের গন্তব্য হবে ময়নাগুড়ি, বাস দিয়ে যেতে সময় লাগবে ৩০ মিনিট আর খরচ হবে জনপ্রতি ২০ রুপি। আর হ্যা আপনাকে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে, দার্জিং আপনাকে ৭ টা থেকে ৮ টার মধ্যে পৌছাতে হবে কারণ ৯ টা ১০ টার মধ্যে সেখানের সব দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়।

যাই হোক ময়নাগুড়ি পৌছানোর পর সেখান থেকে আপনাকে যেতে হবে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি যেতে আপনি এবিএসটিসি বাস পাবেন। জনপ্রতি ভাড়া দিতে হবে ৮০ রুপি করে। শিলিগুড়ি গিয়ে মোবাইলের সিম কিনে নিতে পারেন। এবারের যাত্রা হবে দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে। শিলিগুঁড়ি জংশন থেকে জিপে চড়ে আপনাকে দার্জিলিং যেতে হবে। পৌছাতে আপনার তিন থেকে চার ঘন্টা লাগতে পারে। দারুন ব্যাপার হচ্ছে পথে আপনি উপভোগ করতে পারবেন চারপাশের অপরুপ সৌন্দর্য। একটি জিপ রিজার্ভ করতে আপনার ২০০০ টাকা খরচ হবে যদি শেয়ার জিপে যেতে পারেন ২০০ থেকে ২৫০ রুপি করে।

দিনের পর সন্ধ্যার সৌন্দর্য আপনার মনে প্রশান্তির ছোয়া এনে দিতে পারে।

হোটেল বুকিং

দার্জিলিং এ আপনি ১০০০ থেকে ১৫০০ রুপির মধ্যে ভাল মানের হোটেল পেয়ে যাবেন। যেহেতু সেখানে ৮ টার পর সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে সেহেতু আপনাকে ৮ টার মধ্যে হোটেল বুকিং এবং খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফেলতে হবে।

কোথায় কোথায় ঘুরবেন

তো দার্জিলিং পৌছে গেলেন এবার আমরা জানব কোন কোন স্পটে আপনি ঘুরবেন। প্রথম দিন, ভোর তিনটা উঠে টাইগার হিলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিন। এর প্রধান কারণ আপনাকে হিমালয়ের বরফ ছুয়ে সুর্যোদয় দেখতে হবে। সেখানে সারাদিন দেখার মত অনেক জায়গা রয়েছে যেমন, বাতাসিয়া লুপ, রক গার্ডেন ঘুম স্টেশন, চিড়িয়াখানা, টি গার্ডেন, মল রোড ইত্যাদি। তাছাড়া সেখানে বেশ কিছু মসজিদ রয়েছে সেগুলোও দেখতে পারেন।

দ্বিতীয় দিন, কাঞ্চনজঙ্ঘার উদ্দেশ্যে রওনা দিন। দার্জিলিং থেকে কিছুটা দূরে আরেকটা শহর আছে যেখানে প্যারাগ্লাইডিং করা যায় এবং হিমালয়ের একটা পাশ দেখা যায়।

তিন নাম্বার দিনে আপনি পাহাড় আর লেকে ঘেরা দারুণ ছোট একটা শহর মিরিক থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
মিরিকে ঘুরার জন্য রয়েছে লেক আর মোটেলের টপভিউ।

 

চতুর্থ দিনে সকাল সকাল শিলিগুঁড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিন। মাথায় রাখবেন সন্ধ্যা ছয়টার পর সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে তাই আগে আগে আসার চেষ্টা করুন।

আর এভাবেই আপনি কম খরচে ঢাকা থেকে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারেন।

 

কক্সবাজার ভ্রমণ এর খুঁটিনাটি, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কী খাবেন

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই সমুদ্র সৈকতের অপরূপ সৌন্দর্য এবং সমুদ্রের গর্জন উপভোগ করতে প্রতিবছর দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমায়। কক্সবাজারের একটি আনন্দ যাত্রা আপনার অশান্ত মনকে শান্ত করে দিতে পারে নিমিষেই। আজকে আমরা কক্সবাজার ভ্রমণ এর খুঁটিনাটি বিষয় গুলো জানব। 

কক্সবাজার ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সাধারণত বেশিরভাগ পর্যটকদের কক্সবাজার ভ্রমণের পছন্দের সময় হচ্ছে শীতকাল। কিন্তু কক্সবাজার সব সিজনের জন্যই উপযুক্ত ভ্রমণের জায়গা। একেক সময় একেক ধরণের সৌন্দর্যে আপনার মন ছুঁয়ে যেতে পারে। বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতে কক্সবাজার আপনি চলে যেতে পারেন ঝুম বর্ষায় অথবা নীল আকাশের সাথে সমুদ্র দেখতে বেছে নিতে পারেন শরতকে। পূর্ণিমার রাতে হারিয়ে যেতে পারেন হেমন্ত কালে।  

শীত কালকে কক্সবাজার ভ্রমণের পিক সিজন হিসেবে ধরা হয় তাই সে সময় হোটেল তথা সব কিছুর দাম বেশি থাকে কিন্তু আপনি শীত বাদে অন্য সময় গেলে কিছু তুলনামূলক কম দামে পেয়ে যাবেন।

কিভাবে যাবেন কক্সবাজার 

রাজধানী ঢাকা থেকে আপনি সড়ক, বিমান এবং রেল পথে কক্সবাজার যেতে পারেন। যদি বাসে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য আছে, সৌদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বাস। আসন ভেদে সীটের ভাড়া পড়বে ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

রেল পথে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাবার কোন উপায় নেই। আপনাকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে হবে তারপর সেখান থেকে কক্সবাজার যেতে হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবার ট্রেন গুলো হল, সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণ-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলি ও চট্টলা মেইল । আপনি এই ট্রেন গুলোতে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন অথবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে উঠতে পারেন। 

চট্টগ্রাম পৌঁছে আপনি চলে যান নতুন ব্রিজ অথবা দামপাড়া ব্রিজে সেখানে আপনি, হানিফ, ইউনিক, এস আলম বাস পেয়ে যাবেন। ভাড়া হতে পারে ৩৮০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে। চাইলে আপনি মাইক্রোবাসেও যেতে পারেন।

বিমান পথে যেতে চাইলে আপনি বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স দিয়ে সরাসরি কক্সবাজার চলে যেতে পারবেন। বিমান ভাড়া সাধারণত ৪৫৯৯ থেকে ১২০০০ টাকা পর্যন্ত হয়।

কোথায় থাকবেন 

কক্সবাজার ফ্যামিলি সহ থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল। সেখানে আপনি ৮০০ থেকে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত হোটেল পাবেন থাকার জন্য। অফ সিজনে হোটেলের দাম অর্ধেকেরও কম থাকে। সুযোগ হলে কক্সবাজার নেমে দরদাম করেও হোটেল ভাড়া নিতে পারেন। বিচ থেকে যত দূরে হোটেল নিবেন তত কম দামে পাবেন। ফ্যামিলি সহ এক সাথে থাকতে চাইলে এসি নন এসি ফ্ল্যাটও ভাড়া করতে পারেন। 

কক্সবাজারে আপনি ভাল মানের বিচ ভিউ হোটেলও পাবেন। অনেক গুলো ভাল মানের হোটেল রিসোর্ট রয়েছে যেগুলো থেকে সরাসরি সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। বিচ ভিউ অথবা সী ভিউ হোটেল/রিসোর্ট গুলোর দাম তুলনামূলক বেশিই হয়ে থাকে। 

কোথায় খাবেন? 

সামুদ্রিক খাবার খেতে আপনি কক্সবাজার বিভিন্ন দামের এবং মানের রেস্টুরেন্ট পাবেন। মধ্যম মানের কিছু রেস্টুরেন্ট হল, ধানসিঁড়ি, ঝাউবন, নিরিবিলি, ইত্যাদি। অফ সিজনে খাবারের দাম কম থাকলেও শীতের সময় খাবারের দাম বেড়ে যায়। রেস্টুরেন্ট গুলোতে আপনি বিভিন্ন মুখরোচক খাবার পাবেন যেমন বিভিন্ন ধরণের ভর্তা, লইট্যা ফ্রাই, কোরাল ভেটকি, গরু, রূপচাঁদা ফ্রাই ইত্যাদি।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখার পাশাপাশি আপনার জন্য রয়েছে আরও বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। কক্সবাজার ঘুরতে গেলে আপনি অবশ্যই এই সমস্ত জায়গায় ঘুরে আসুন। উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান গুলো হল, ইনানী সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, মহেশখালী, রামু বৌদ্ধবিহার, সেন্টমার্টিন। 

গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ টিপস:  

  • কম খরচে ভ্রমণের জন্য অফ সিজন বেছে নিন
  • যেকোনো সময় সাহায্যের জন্য টুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিন, টুরিস্ট পুলিশের হট লাইন নাম্বার +০৮৮০১৭৬৯৬৯০৭৪০
  • হোটেল ভাড়া, রেস্টুরেন্টে খাবার, যেকোনো কিছু কেনার আগে ভাল ভাবে দরদাম করে নিন
  • সমুদ্র নামার সময় সর্তক থাকুন, ডেঞ্জার জোন গুলো এড়িয়ে চলুন।