Kaspersky APAC

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে দুটি ফেইস মাস্ক এবং ত্বকের যত্নে বিভিন্ন তেলের গুরুত্ব

রূপচর্চা করতে কে না ভালবাসে? তবে অনেক সময় প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা এবং উপকরণের অভাবে আমরা চাইলেও সঠিক ভাবে রূপচর্চা করতে পারি না। অনেকেই আছি যারা ঘরোয়া পদ্ধতিতেও রূপ চর্চা করতে চাই। আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্নের পাশাপাশি রূপচর্চা করবেন। 

ত্বকের যত্নে আপনি ফেইস মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে ফেইস মাস্কের গুরুত্ব অনেক। চলুন দুইটি ফেইস প্যাক বানানো শেখা যাক। এই দুটি ফেইস প্যাক আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

ফেইস প্যাক ১ 

আপনি টক দই এবং হলুদ দিয়ে সহজেই একটি প্যাক বানিয়ে ফেলতে পারেন। ত্বকের যত্নে টক দই এবং হলুদ আপনার দারুণ উপকারে আসতে পারে। আমরা জানি হলুদে কারকিউমিন থাকে যা একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, এই উপাদান ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। অন্য দিকে টক দই এ থাকে ল্যাকটিক এসিড, এটিও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে ভাল কাজ করে। 


এই প্যাকটি বানাতে আমাদের লাগবে ২ চা চামচ টক দু এবং ১/৪ চা চামচ হলুদ। বানানোর পদ্ধতি একদম সহজ!  এই দুইটি উপাদান মিক্সড করুন এবং একটি প্যাক তৈরি করুন। ১৫ মিনিট রেখে মুখ ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলুন।

ফেইস প্যাক ২

আমরা দুই নাম্বার ফেইস প্যাকটি তৈরি করব টমেটো এবং নারিকেলের উপাদান থেকে। এটি তৈরি করতে আমাদের প্রয়োজন হবে এক চামচ টমেটোর জুস এবং দুই চামচ পরিমাণ নারিকেল দুধ। এক চামচ টমেটোর জুসের সাথে দুই চামচ নারিকেলের দুধ মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। ঘুমাতে যাবার আগে ত্বকের উপর হালকা ভাবে লাগিয়ে, ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে আপনি পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।


টমেটো এবং নারিকেলের দুধ উভয় উপাদানই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে পারে। আপনি যদি নিয়মিত এটি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে অবশ্যই একটি ভাল ফিডব্যাক পাবেন।

তাছাড়া আপনি ত্বকের যত্নে বিভিন্ন তেল ব্যবহার করতে পারেন। আলাদা আলাদা তেলের রয়েছে আলাদা আলাদা গুণাবলি। সঠিক ভাবে নির্দিষ্ট তেল ব্যবহারে আপনার ত্বক হয়ে উঠতে পারে সতেজ কোমল এবং টানটান। 

১. সূর্যমুখীর তেল

ত্বকের যত্নে সূর্যমুখীর তেলের গুরুত্ব অনেক। এই তেল আপনার মুখের ব্রণের দাগ দূর করতে পারে, ত্বক শুষ্ক হতে দেয় না আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং বয়সের চাপ পড়তে বাধা দেয়। এই তেলের দারুণ একটি গুণ হল এতে অন্য তেলের মত তেল-চিটচিটে ভাবটা থাকে না। যেকোনো ত্বকে আপনি এই তেল ব্যবহার করতে পারেন। 

২. নারিকেল তেল

ত্বককে নমনীয় রাখতে নারিকেল তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাছাড়া ব্রণের দাগ এবং র‍্যাশের সমস্যা সমাধানেও এই তেল বেশ উপকারী। এই তেল আপনার মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করতে পারে। নির্দিষ্ট দাগে নিয়মিত এই তেল মালিশ করলে আস্তে আস্তে দাগ হালকা হয়ে যেতে পারে।  

চোখের নিচের কালো দাগ আপনি সহজেই দূর করতে পারেন নারিকেল দিয়ে। ভিটামিন ই ক্যাপসুলের সাথে নারিকেল তেল মিশিয়ে নিরাপদ ঠাণ্ডা জায়গায় রেখে দিন এবং ঘুমানোর আগে নিয়মিত ব্যবহার করুন। চোখের কালো দাগ আস্তে আস্তে দূর হয়ে যাবে। তাছাড়া এই তেল আপনি ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে এবং ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর করতে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। 

৩. তিলের তেল

ত্বকের বলিরেখা রোধ করতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে তিলের তেল। অনেকে সঠিক ভাবে ত্বকের যত্ন নেয় না ফলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়। এই বলিরেখা অনেকেরই হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ত্বকের এই ধরণের বলিরেখার সমাধান হতে পারে নিয়মিত তিলের তেল ব্যবহার করা। 

নিয়মিত তিলের তেল মুখে মালিশ করলে আপনর ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে ত্বক আরও প্রাণবন্ত রাখবে। ত্বকের পোড়া ভাবও দূর করতে পারে জাদুকরী এই তেল। রাতে ঘুমানোর আগে মুখের তিলের তেল মেখে ঘুমান এটি আপনার ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখবে। 

৪. অলিভ ওয়েল

ত্বককে সতেজ রাখার মত যথেষ্ট উপাদান সমৃদ্ধ একটি তেল হচ্ছে অলিভ ওয়েলে। এতে আছে ভিটামিন ই, এবং ভিটামিন এ সহ আরও অনেক উপাদান। মুখে নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ মিনিট করে অলিভ ওয়েল মাখতে পারেন, মাখার পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে আপনার ত্বকের সতেজতা ফিরে আসবে, আপনাকে দেখাবে আরও প্রাণবন্ত। 

গোসলের সময় পানিতে সামান্য অলিভ ওয়েল মিশিয়ে গোসল করলে আপনার সারাদিনের ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে যেতে পারে। শীতের সময় অলিভ ওয়েল তো আমাদের ত্বককে ঠিক রাখতে জরুরি হয়ে পড়ে। শীতে নিয়মিত অলিভ ওয়েল ব্যবহারের ফলে ত্বকের ফাটা প্রতিরোধ হতে পারে এবং ত্বকের শুষ্কতা এড়ানো সম্ভব হয়।

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার উপায়

উঠতি বয়সী তরুণ তরুণী তথা সকল বয়সের মানুষের মধ্যে চোখের নিচের কালো দাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে দেখা যায়। চোখের নিচের এই দাগ আমাদের যেমন বিষণ্ণ দেখায় তেমনি চেহারার সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান করে ফেলে। ঠিক কি কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে এর উত্তর এখনো পরিষ্কার ভাবে জানা যায় নি, এটা নিয়ে গবেষণা চলমান। তবে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ার উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ জানা যায় যেগুলো প্রায় সবার জানাশুনার মধ্যে। 

জিন গত কারণে আপনার চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে। নির্দিষ্ট বয়সে বা তার আগেও এমন দাগ দেখা দিতে পারে। তরুণ তরুণীদের মধ্যে খুবই কমন একটা বিষয় দেখা যায় আর সেটা হল, রাত জাগা। অতিরিক্ত রাত জাগার ফলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে যেকোনো ব্যক্তির সাথেই এমনটি ঘটতে পারে। এখানে আশার কথা হচ্ছে অনিদ্রার কারণে যদি চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে তাহলে সেটা, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করলেই ঠিক হয়ে যায়।

কিন্তু যাদের পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও এমন দাগ আছে তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল। হাই ব্লাড প্রেশার এবং অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের কারণে এমনটি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রাত জাগার অভ্যাসও কিন্তু স্থায়ী ভাবে কালো দাগ তৈরি করতে পারে। 

চোখের নিচের কালো দাগের সমাধান কী হবে?  এই সমস্যায় আমাদের প্রথম পরামর্শ হচ্ছে আপনি সবার আগে অবশ্যই ভাল কোন ডাক্তার দেখান এবং আপনার সমস্যা বিস্তারিত খুলে বলুন। এছাড়া এই দাগ এড়াতে চিন্তা মুক্ত থাকুন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান এবং পানি পান করুন।

উপরের নির্দেশনা মানার পরেও কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি এই দাগ অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন যদি আপনার বড় ধরণের কোন সমস্যা না থাকে। চলুন চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়া যাক।

 

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে অনেক বিশেষজ্ঞ সিরাম ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ক্যাফেইন যুক্ত আই সিরাম সামান্য পরিমাণ নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি কালো দাগ অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে।

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে ম্যাসাজও ভাল কাজে আসতে পারে। আঙুলের উপরের অংশ দিয়ে চোখের নিচের অংশে নিয়মিত ম্যাসাজের ফলে দাগ অনেকটাই কমে আসতে পারে এবং ত্বকে টানটান ভাব ফিরে আসতে পারে। আপনি কালো দাগ দূর করতে শসাও ব্যবহার করতে পারেন। 

আপনি একটি চামচ ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে চোখের নিচে হালকা করে চেপে রাখতে পারেন। এটি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন করলে কালো দাগ অনেকটাই কমে আসবে। 

সর্বশেষ চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে আপনি লেজার ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। তবে সেটা আপনার জন্য উপযুক্ত হবে কিনা সেটা জানার জন্য অবশ্যই ভাল কোন ডার্মাটলজিস্টের পরামর্শ নিন

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে অনেক বিশেষজ্ঞ সিরাম ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ক্যাফেইন যুক্ত আই সিরাম সামান্য পরিমাণ নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি কালো দাগ অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে।

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে ম্যাসাজও ভাল কাজে আসতে পারে। আঙুলের উপরের অংশ দিয়ে চোখের নিচের অংশে নিয়মিত ম্যাসাজের ফলে দাগ অনেকটাই কমে আসতে পারে এবং ত্বকে টানটান ভাব ফিরে আসতে পারে। আপনি কালো দাগ দূর করতে শসাও ব্যবহার করতে পারেন। 

আপনি একটি চামচ ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে চোখের নিচে হালকা করে চেপে রাখতে পারেন। এটি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন করলে কালো দাগ অনেকটাই কমে আসবে। 

সর্বশেষ চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে আপনি লেজার ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। তবে সেটা আপনার জন্য উপযুক্ত হবে কিনা সেটা জানার জন্য অবশ্যই ভাল কোন ডার্মাটলজিস্টের পরামর্শ নিন।

 

 

যে দশটি অভ্যাস আপনাকে সুস্থ রাখতে পারে

প্রতিটি মানুষ সুস্থ সুন্দর এবং সুখী জীবনের প্রত্যাশা করে। সুখী সুন্দর জীবনের প্রথম শর্ত হচ্ছে সুস্থ থাকা। বলা হয় স্বাস্থ্যই সকল সুখের মুল। আমরা নিজেদের সুখ সাফল্যের জন্য ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ব্যস্ত থাকি কিন্তু স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল দেই না। যে বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ সেখানেই আমাদের অবহেলা বেশি লক্ষ্য করা যায়। সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে আপনাকে খুব বেশি কিছু করতে হবে এমনটা কিন্তু নয়। নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন এবং ভাল কিছু অভ্যাস গড়ে তুলার মাধ্যমে আপনি নিজেকে সুস্থ রাখতে পারবেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সুস্থ থাকার কিছু ভাল অভ্যাস সম্পর্কে জানব।

১. ভোরে ঘুম থেকে উঠুন

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম যেমন জরুরি তেমনি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠাও জরুরি। সকাল বেলার আবহাওয়া আপনার মনকে ফুরফুরে এবং সতেজ করে তুলতে পারে। আপনি কাজের জন্য দিনের বেলায় অনেক সময় পেতে পারেন। তাছাড়া সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠলে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যারা ভোরে ঘুম থেকে উঠে তাদের মস্তিষ্ক বেশি কর্মক্ষম এবং যেকোনো কাজে সময় কম নেন। 

সকালের বাতাসে ধুলো বালি ক্ষতিকর কিছু না থাকায় সেই বাতাসটি হয় বিশুদ্ধ। আর বিশুদ্ধ বাতাস আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে সেটা অনেক রোগ থেকে আমাদের সুস্থ রাখতে পারে। 

২. পরিমাণমত খাবার খান

সারাদিন আপনি কী খাবেন আর কী খাবেন না সেটার একটা পরিকল্পনা করুন। আপনার বয়স অনুযায়ী আপনার শরীরের কি পরিমাণ প্রোটিন, লৌহ, ক্যালরি দরকার সেটা মাথায় রাখুন। যদি ওজন কমাতে চান তাহলে অবশ্যই ফ্যাট জাতীয় খাবার পরিহার করুন। কার্বোহাইড্রেট বা চর্বি রয়েছে এমন খাবার এবং জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন। প্রতিবার খাবারে শাক সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. সঠিক ভাবে নাস্তা করুন 

দিনের শুরুর খাবারটা আমাদের দেহকে সুস্থ রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্য প্রতিদিন নাস্তাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিন। সারাদিন আপনাকে কর্মক্ষম রাখতে পারে সকালের ভাল একটি নাস্তা। নাস্তা না করলে কাজে যেমন অলসতা আসতে পারে তেমনি শরীরের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে সকালে ভাল নাস্তা করলে বড়রা যেমন কাজের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকে তেমনি শিশুরাও একাডেমিক ভাবে এগিয়ে থাকে। নাস্তা অল্প করে করলেও নিশ্চিত হোন যা খাচ্ছেন তা স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর কিনা। 

৪. বেশি করে পানি পান করুন

পানি আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারী এটা হয়তো নতুন করে বলার কিছু নাই। স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি। এটি আমাদের শরীরের ক্ষতিকর উপাদান বের করা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 

পানি রক্তে ও কোষে সরবারহ করে অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। এটি একই সাথে সারা শরীরের রক্ত সঞ্চালনও বৃদ্ধি করে। পানি নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা। হজম শক্তি বাড়তে কাজ করে পানি এবং এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সাহায্য করে।


৫. এক্সারসাইজ করুন

শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্রতিদিন সকালে হাটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন এটি আপনাকে অনেক রোগের হাত থেকে বাচাতে পারবে। হাটার পাশাপাশি ঘরে বসে বিভিন্ন ব্যায়াম আপনি করতে পারেন। মাঝে মাঝে নিয়ম করে জিমে যেতে পারেন। মনকে সুন্দর ও শান্ত রাখতে নিয়মিত মেডিটেশনও করতে পারেন। 



৬. নতুন কিছু শিখুন 

শরীরের যেমন ব্যায়াম দরকার তেমনি আমাদের ব্রেনকেও মাঝে মাঝে নতুন কিছু শেখাতে হবে। নতুন কিছু জানার চেষ্টা করতে হবে নতুন কিছু শিখতে হবে। নতুন কোন ভাষা শিখতে পারেন, আর্ট করা শিখতে পারেন সেটা যেমনই হোক, টুকটাক লেখালেখি করতে পারেন। এই অভ্যাস গুলোকে আপনার শেষ বয়সে কাজে আসতে পারে। আপনার ব্রেনের এক্সারসাইজ হতে পারে এগুলার মাধ্যমে আপনি আরও বেশি সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারেন।  

৭. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান

সুস্থ থাকতে মানবজীবন ঘুমের গুরুত্ব অনেক। সঠিক ঘুম ছাড়া কোন প্রাণীই স্বাভাবিক থাকতে পারে না। মানুষের দেহের সব গুলো অঙ্গ ঠিক ভাবে পরিচালিত হবার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুম খুবই জরুরি। 

প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। রাতে এক টানা ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হলে আপনি সারাদিন সুস্থ মেজাজে থাকতে পারবেন কাজে, পড়াশুনায় মনোযোগ আসবে। 

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা দৈনিক মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ঘুমায় তাদের মৃত্যু ঝুঁকি ১৫% বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আমাদের দেহে কর্টিসল নামক হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই হরমোনের প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। 

৮. ধূমপান থেকে বিরত থাকুন

আপনাকে সুস্থ থাকতে যেমন ভাল অভ্যাস গুলো গড়ে তুলতে হবে তেমনি বদভ্যাস গুলোও ত্যাগ করতে হবে। ধূমপানের মত বদভ্যাস আপনাকে অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর সেটা আমরা জানি। ধূমপানের ফলে হৃৎপিণ্ড, লিভার ও ফুসফুস ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ধূমপানের কারণে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ এবং বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার হতে পারে আমাদের শরীরে। এটি ফুসফুসের ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার, ল্যারিংস ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার এর ঝুঁকি বাড়ায়। 

ধূমপানের ফলে যে ব্যক্তি ধূমপান করে সে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমনি তার আশেপাশের মানুষজনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

৯. শরীরে রোদ লাগান 

প্রতিদিন নিয়ম করে কিছু সময় শরীরে রোদ লাগানোর চেষ্টা করুন। আমরা জানি শরীরে রোদ লাগালে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বাড়বে। আর সেই ভিটামিন আপনার শরীরের হাড়, হৃদযন্ত্র এবং মেজাজকে ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। 

 ১০. অনলাইন ত্যাগ করে কিছু সময় অফলাইনে থাকুন 

বর্তমানে আমরা ইন্টারনেটে অনেক বেশি কালেক্টেড। সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন, সব ক্ষেত্রে আমরা ফোন বা পিসির সামনে অধিক সময় ব্যয় করছি। একদিকে এটি যেমন আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে তেমনি শারীরের জন্যও সেগুলো ক্ষতিকর। অতিরিক্ত ডিভাইস আসক্তি আপনার চোখের এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। 

ইন্টারনেটের আসক্তি কমাতে আপনি দিনের নির্দিষ্ট একটি সময় নিজেকে অফলাইনে রাখুন, সৃজনশীল কোন কাজ করুন, বই পড়ুন, পরিবারকে সময় দিন, ঘুরতে যান। এই অভ্যাসটি আপনাকে মানসিক ভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।