Kaspersky APAC

আনন্দে উৎসবে বাঙ্গালী সব সময় বৈচিত্র্যময়। প্রাচীন কাল থেকে বাঙালির ইতিহাস সংস্কৃতিতে মিশে আছে বিভিন্ন উৎসব। দুঃখ কষ্ট যাই থাকুক বাঙালি তার উৎসবকে কখনো ভুলে না। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দুই বাংলাতে বসবাস করলেও উৎসবে আমেজে সবাই এক৷ উৎসবের কথা আসলে একটা কথা সবার মনে আসে, “বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ”। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে এই বাংলা সেজে উঠে নতুন সাজে। 

পুরো উপমহাদেশের মধ্যে বাংলা ভূখণ্ড সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময়, ভূ-প্রকৃতির দিক থেকে একদিকে রয়েছে সুউচ্চ হিমালয় পর্বত, আবার অন্যদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগর। ভূ-প্রাকৃতিক ভাবে বৈচিত্র্যতা থাকার কারণে সংস্কৃতিতেও এই বাংলায় রয়েছে বৈচিত্র‍্যতা।

বাংলার বিভিন্ন উৎসব 

বাংলার উৎসব গুলো সুনির্দিষ্ট ভাবে শ্রেণী বিন্যস্ত করা যায় না, যেমন হতে পারে কিছু উৎসব নির্দিষ্ট ঋতুতে হয় কিন্তু এর মুলে থাকে ধর্ম। তার পরেও বাংলার উৎসব গুলোকে আমরা প্রধানত চার শ্রেণীতে ভাগ করতে পারি যেমন, ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক উৎসব, ঋতু উৎসব, জাতীয় উৎসব । ব্যক্তিগত দুঃখ কষ্ট ভুলে সবার সাথে খুশি ও আনন্দে মেতে উঠার জন্যই উৎসব গুলো পালিত হয়৷ উৎসবে থাকে না কোন ধর্মীয় ভেদাভেদ।

ধর্মীয় উৎসব 

বাঙালিরা ধর্মীর আচার অনুষ্ঠান পালন করতে যে উৎসবের আয়োজন করে সেগুলো মূলত ধর্মীয় উৎসব। বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন বিশ্বাস ও ভাবনাকে কেন্দ্র করে উৎসব গুলো পালন করা হয়। বাংলায় যেহেতু হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ধর্মে মানুষ বাস করে সেহেতু সেই ধর্মের উৎসব গুলো ধুমধাম করে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে পালিত হয়।

হিন্দু ধর্মের রয়েছে না পূজা পার্বণ সারা বছরই বিভিন্ন উৎস পালনে অভ্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে দুর্গোৎসব। দুর্গা পূজার সময় ঢাকে ঢুলে বাঙালির মনে আনন্দের সঞ্চার হয়৷ 

মুসলমানদের রয়েছে দুই ইদ। মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিন হল এই দুই ইদ। আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ১ মাস রোজা রেখে এবং পশু কোরবানির মাধ্যমে মুসলমানরা আনন্দের সাথে ইদ পালন করে। বাঙালির ঘরে ঘরে বয়ে যায় অনাবিল সুখ। 

খৃষ্টানদের সবচেয়ে বড় উৎসব হল ইস্টার সানডে। যিশু খ্রীষ্টের জন্ম উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর সারা দেশে উৎসবটি সবাই মিলে পালন করে। 

সামাজিক উৎসব 

ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাংলায় পালিত হয় বিভিন্ন সামাজিক উৎসব। সমাজে বসবাস করতে মানুষ যে সকল আচার অনুষ্ঠান পালন করে সেগুলো হচ্ছে সামাজিক উৎসব। সামাজিক উৎসব গুলোর মধ্যে রয়েছে, উপনয়ন, অন্নপ্রাশন, ভাই ফোটা, জামাই ষষ্ঠী, বিয়ে ইত্যাদি। 

উপনয়ন উৎসবটি মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পালন করে। এই উৎসবের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী বালকেরা গায়ত্রী মন্ত্র সংস্কারে দীক্ষিত হয়। অন্যদিকে আরেকটি উৎসব হচ্ছে অন্নপ্রাশন। ঘরে নতুন সন্তানের আগমন উপলক্ষে ভোজ অথবা খাবারের আয়োজন করাই হল অন্নপ্রাশন। 

সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে এই উৎসব গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

ঋতু উৎসব

ছয়টি ঋতুতে বাংলা তার রূপ পরিবর্তন করে। কখন গ্রীষ্মের দাবদাহ, কখনো বর্ষা, কখনোবা হাড় কাঁপানো শীত বাঙালিকে দেয় আলাদা আলাদা স্বাদ। ছয়টি ঋতুকে কেন্দ্র করে বাঙালিরা বিভিন্ন উৎসব পালন করে। বাঙালির ঋতু উৎসব গুলোর মধ্যে রয়েছে, পহেলা বৈশাখ, শারদোৎসব, বাসন্তোৎব, এবং বর্ষা বন্দনা। তাছাড়াও আরও কিছু উৎসব আছে যেগুলো এলাকা ভেদে পালিত হয় যেমন, হোলি, পৌষে মকর এবং নবান্ন। নতুন ধানের গন্ধে বাঙালির ঘরে ঘরে আসে নবান্ন উৎসব। 

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দুই বাংলায় দেখা দেয় উৎসবের আমেজ৷ বাঙালি পান্তা ইলিশ খায়, পুরাতনকে ভুলে গিয়ে সবকিছু নতুন করে শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। 

হিন্দুদের প্রাচীনতম একটি উৎসব নবান্ন উৎসব। নতুন ধান ঘরে তুলার সময় এই উৎসব পালন করা হয়। তাছাড়া হিন্দুশাস্ত্রে এই উৎসবের কথা উল্লেখ আছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন ধান উৎপাদনের সময় পিতৃপুরুষরা অন্ন প্রার্থনা করে থাকেন। তাই তারা এই সময় শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন। ধর্ম গ্রন্থে পাওয়া যায় নতুন ধান তুলে এই উৎসব পালন না করলে পাপের ভাগীদার হতে হয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এই নবান্ন উৎসব অত্যন্ত আনন্দের সাথে উদযাপিত হয়। 

জাতীয় উৎসব

বাংলাদেশ ও ভারতের বাঙালিরা দেশ অনুযায়ী জাতীয় উৎসব পালন করে৷ যেমন ভারতীয়রা ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস সারাদেশ ব্যাপী পালন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করে। তাছাড়া মায়ের ভাষার জন্য প্রাণ দেয়া শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে, দুই বাংলা তথা সারা বিশ্বে, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় । 

তাছাড়াও মহান ব্যক্তিদের জন্মদিন দিনকে বিশেষ ভাবে পালন করা হয় যেমন, রবীন্দ্র জয়ন্তী, নজরুল জয়ন্তী, নেতাজির জন্মদিন, গান্ধীজীর জন্মদিন, বিবেকান্দের জন্মদিন এবং বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন।  

বিদেশি সংস্কৃতি বাংলাতেও এসেছে তাই প্রাচীন কালের উৎসব গুলোর পাশাপাশি বাঙালিরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস যেমন, হ্যাপি নিউ ইয়ার, ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করে।

উপমহাদেশে বাংলাকে আলাদা করা হয়েছিল কয়েকবার তারপরেও বাঙালির বাঙালিয়ানাতে কখনো কমতি আসে নি৷ তাই ঈশ্বর গুপ্ত বলেছিলেন, এত ভঙ্গ বঙ্গদেশ, তবুও রঙ্গে ভরা”। আসলেই বাঙালিদের মধ্যে রঙ্গের শেষ নেই উৎসবের শেষ নেই৷ 

কালের বিবর্তনে অনেক উৎসব হারিয়ে গিয়েছে এই বাংলা থেকে, কিছু উৎসব হয়তো আগের মত পালন করা হয় না তবে বাঙালি কখনো তার ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে ভুলবে না।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পূজো :

Agomoni Durga Pujo. Toronto, Canada.
Durga Pooja By Rupa Talukder. London UK.
Shubhabazar Rajbari Pujo, Kolkatta. India.
Durga Pujo Shidur Khela Kolkatta, India.
  • Warmest Congratulation on Your Achievement to Amar Pujo, Toronto.
  • From Debangshu Chakroborty, Sumita Bhattacharjee and team Desher Mati

আমার পুজো টরেন্টো এই বছরে ১১ তে পা দিলো। সাবেকী প্রথা ভেঙে দুর্গাপুজো কে সার্বজনীন করার যে স্বপ্ন ‘ আমার পুজো ‘ দেখেছিল, আজ তা সফল। এই পুজো বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ধ্যান ধারণা, এবং সর্বোপরি এই সুদূর প্রবাসে, বাঙালির খাওয়াদাওয়া, আড্ডা ও ভাষা চর্চায় সমান উৎসাহ প্রদান করে চলেছে। আমার পুজো এমন এক পুজো যেখানে ছোট বড়, পুরুষ নারী, স্বজন পরিজন মিলে মিশে একাকার  ।এগিয়ে চলুক প্রবাসে আমার পুজো টরেন্টোর এই জয়যাত্রা আপনাদের, আমাদের সবার শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা নিয়ে। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক আমার পুজোর জয়গান।

Amar Pujo. Toronto Canada.

উৎসব হলো আনন্দময় অনুষ্ঠান।আর আমরা বাঙালিরা উৎসব প্রিয়।উৎসবের মধ্যেই রয়েছে বাঙালির আনন্দ। তাই বাঙালির ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের মেঘ বার বার ঘনিয়ে এলেও বাঙালির আনন্দস্রোতে ভাটা কখনো পড়েনি। বাঙালি নানান রঙে বার বার সাজিয়েছে তার উৎসবের ডালি।উৎসবের দিনের আনন্দের মুহূর্ত গুলোকে বাঙালি ছড়িয়ে রেখেছে তার বিস্তৃত জীবনের আঙিনায়।