Kaspersky APAC

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পূজো :

Agomoni Durga Pujo. Toronto, Canada.
Durga Pooja By Rupa Talukder. London UK.
Shubhabazar Rajbari Pujo, Kolkatta. India.
Durga Pujo Shidur Khela Kolkatta, India.
  • Warmest Congratulation on Your Achievement to Amar Pujo, Toronto.
  • From Debangshu Chakroborty, Sumita Bhattacharjee and team Desher Mati

আমার পুজো টরেন্টো এই বছরে ১১ তে পা দিলো। সাবেকী প্রথা ভেঙে দুর্গাপুজো কে সার্বজনীন করার যে স্বপ্ন ‘ আমার পুজো ‘ দেখেছিল, আজ তা সফল। এই পুজো বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ধ্যান ধারণা, এবং সর্বোপরি এই সুদূর প্রবাসে, বাঙালির খাওয়াদাওয়া, আড্ডা ও ভাষা চর্চায় সমান উৎসাহ প্রদান করে চলেছে। আমার পুজো এমন এক পুজো যেখানে ছোট বড়, পুরুষ নারী, স্বজন পরিজন মিলে মিশে একাকার  ।এগিয়ে চলুক প্রবাসে আমার পুজো টরেন্টোর এই জয়যাত্রা আপনাদের, আমাদের সবার শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা নিয়ে। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক আমার পুজোর জয়গান।

Amar Pujo. Toronto Canada.

উৎসব হলো আনন্দময় অনুষ্ঠান।আর আমরা বাঙালিরা উৎসব প্রিয়।উৎসবের মধ্যেই রয়েছে বাঙালির আনন্দ। তাই বাঙালির ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের মেঘ বার বার ঘনিয়ে এলেও বাঙালির আনন্দস্রোতে ভাটা কখনো পড়েনি। বাঙালি নানান রঙে বার বার সাজিয়েছে তার উৎসবের ডালি।উৎসবের দিনের আনন্দের মুহূর্ত গুলোকে বাঙালি ছড়িয়ে রেখেছে তার বিস্তৃত জীবনের আঙিনায়।


বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পূজো।মানুষের ধর্মীয় আচার,আচরণে ছাড়াও রয়েছে আবেগ,আনন্দ ও উৎসাহ।সারা বছর ধরে বাঙালিরা অপেক্ষা করেন এই উৎসবের। বর্তমানে দুর্গা পূজা শুধুই যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান তা কিন্তু নয় এখন এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের অর্থনৈতিক দিকটাও। তবে এই উৎসবের সূচনা সম্পর্কে অনেকের অজানা।
দুর্গা পুজোর সূচনা হয়েছিল বহু প্রাচীন কালেই । দুর্গার পুজো শুরুর যথার্থ নথি না পাওয়া গেলেও, বৈদিক সাহিত্যে দুর্গার পরিচয় আছে। অনেকেরই মতে, সম্ভবত মোঘল আমল থেকেই ধনী পরিবারগুলিতে দুর্গা পুজো করা হত। ইতিহাস বলছে দেবীর পুজো সম্ভবত ১৫০০ শতকের শেষ দিকে প্রথম শুরু হয়। সম্ভবত দিনাজপুর- মালদার জমিদার স্বপ্নাদেশের পর প্রথম  পারিবারিক দুর্গা পুজো  শুরু করেছিলেন। তবে এই দুর্গার রূপ ছিল অন্যরকম। লোককথা মতে আদি দুর্গার চোখ গোলাকার ও উজ্জ্বল এবং দেবী সাদা বাঘ ও সবুজ সিংহের উপর বিরাজ করেন।
অন্য সূত্রানুসারে, তাহেরপুরের রাজা কংসশনারায়ন বা নদীয়ার ভবানন্দ মজুমদার বাংলায় প্রথম শারদীয়া বা শরৎ দুর্গা পূজা সংগঠিত করেন। এরপরে রাজশাহির রাজা এবং বিভিন্ন গ্রামের হিন্দু রাজারা প্রতি বছর এই পুজো আরম্ভ করেন। আবার কলকাতায় ১৬১০ সালে বারিশার রায়চৌধুরী পরিবার প্রথম দূর্গাপুজার আয়োজন করেছিল বলে জানা যায়। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের পর রাজা নবকৃষ্ণদেব লর্ড ক্লাইভের সন্মানে কলকাতার শোভা বাজার রাজবাড়িতে  দূর্গাপূজার মাধ্যমে বিজয় উৎসবের আয়োজন করেছিলেন এবং তাঁর জন্য বিদেশ থেকে নিকি বাঈ নামে এক নর্তকীকে আনিয়ে ছিলেন। ব্রিটিশ বাংলায় এই পূজা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায় এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দূর্গাপুজো স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে জাগ্রত হয়।
১৯১০ সালে কলকাতায় প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে বারোয়ারি পুজোর শুরু হয়। সনাতন ধর্মতসাহিনি সভা, বাগবাজারে সার্বজনীনে একটি দুর্গোৎসবের সূচনা করেন যা সম্ভব হয়েছিল জনসাধারণের সহযোগিতার সাহায্যে। তারপর থেকে গোটা বাংলায় দুর্গা পুজোর প্রবল প্রচার হয় এবং বর্তমানে এটি বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
দুর্গা পূজো শুধু বাংলার বা বাঙালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বাংলার বাইরে দেশে ও বিদেশ ভীষন আড়ম্বরের ও উৎসাহের সাথে উজ্জাপিত হয়। 

“বাঙালি ঘরকুনে” এ অপবাদ আমাদের সকলেরই জানা কিন্তু তাই বলে বাঙালি কখনই আত্মকেন্দ্রিক নয়। আত্মকেন্দ্রিক মানে আপনাতে আপনি বদ্ধ।কিন্তু বাঙালি যদি আপনাতে আপনি বদ্ধ হতো তাহলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ হতনা। আমার আনন্দে সকলের আনন্দ হোক,আমার আনন্দ আরো পাঁচ জন উপভোগ করুক – এই কল্যাণী ইচ্ছাই হলো উৎসবের প্রাণ।সকল বাঙালির মনে এই ইচ্ছে আছে বলেই সবাই মিলেমিশে উৎসবে মেতে উঠে।

বাংলার উৎসব গুলিকে মূলত চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।

  1. ধর্মীয় উৎসব
  2. সামাজিক উৎসব
  3. ঋতু উৎসব
  4. জাতীয় উৎসব

তবে উৎসবকে সুনির্দষ্টভাবে ভাবে বিভাজন করা যায়না।যেমন কিছু উৎসব ঋতু বিষয়ক উৎসব বলে গণ্য কিন্তু ভালো করে বিশ্লেষন করলে দেখা যাবে তার মুলে ধর্ম নিহিত রয়েছে।

উৎসবের মধ্য দিয়েই মিলন:

ব্যাক্তিগত দুঃখ কষ্ট ভুলে সবার সাথে আনন্দে মেতে ওঠায় উৎসবের প্রধান উদ্দেশ্য।উৎসবানুষ্ঠান নিবার্ধ মেলামেশার সুযোগ করে দেয় আমাদের। উৎসবের ময়দানে জাতি ধর্ম অর্থ গত ভেদাভেদের কোনো কোনো প্রাচীর থাকেনা। পারস্পরিক আনন্দ প্রীতি বিনিময়ের মধ্য দিয়েই রচিত হয় সুন্দর সুন্দর বন্ধুত্ব। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের এই আনন্দে মেতে ওঠা বাঙালির উৎসব পালনকে করে তোলে সার্থক।

প্রতিদিনের গতানুগতিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে কে না চায়, সকলেই চায় বৈচিত্রের স্বাদ। সকলেই চায় নিজের গণ্ডিবদ্ধ জীবনকে বৃহত্তর ক্ষেত্রে মুক্তি দিয়ে অসংখ্য প্রাণের স্পর্শে সরস ও মাধূর্যমন্ডিত করতে।তাই জীবনে উৎসবের প্রয়োজন অপরিসীম।তাই বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ অনুষ্ঠিত হবে। জিবনপ্রবাহের সাথে উৎসব অনুষ্ঠানের ধারাও সমান্তরাল ভাবে বয়ে চলবে অনন্তকাল।