Fashion & Makeup

WELCOME TO IONIC FASHION ACADEMY, KOLKATA

ত্বকের যত্নে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ব্যবহার করে আসছে বিভিন্ন ধরণের ফেসিয়াল। ত্বককে পরিষ্কার, মসৃণ এবং লাবণ্যময় রাখতে ফেসিয়ালের জুরি নেই। অনেকে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করে আবার অনেকে পার্লারে গিয়ে এক্সপার্টের মাধ্যমে ফেসিয়াল করাতে পছন্দ করে । 

সময়ের সাথে সাথে ত্বকের যত্নে এসেছে বৈচিত্র্যময় সব পদ্ধতি। ফেসিয়ালেও যুক্ত হয়েছে নতুন ধরণ। বর্তমান সময়ের এমনই এটি আধুনিক এবং জনপ্রিয় ফেসিয়াল হচ্ছে হাইড্রাফেসিয়াল। হাইড্রাফেসিয়াল কী এবং কেন এটি এত জনপ্রিয় সেটা নিয়েই আজকের এই আর্টিকেল। 

হাইড্রাফেসিয়াল কী?

ত্বকের আর্দ্রতা বা ময়শ্চারাইজার কমে গেলে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক, জৌলুসহীন হয়ে যায়৷ হাইড্রাফেসিয়াল করা মূল লক্ষ্য হচ্ছে ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত আর্দ্রতা পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ মেশিনের মাধ্যমে ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা সরিয়ে এবং উন্নতমানের সিরাম দ্বারা ত্বককে ঝকঝকে পরিষ্কার ও আর্দ্র করার পদ্ধতি হচ্ছে হাইড্রাফেসিয়াল। হাইড্রাফেসিয়ালে বিশেষ যন্ত্রের পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ হাতের৷ এক্সপার্টরা হাইড্রাফেসিয়ালের মাধ্যমে আপনার ত্বককে করে তুলতে পারে আরও প্রাণবন্ত ও লাবণ্যময়। 

Photo Credit 1 https://www.pexels.com/photo/specialist-making-face-skin-procedure-with-modern-equipment-5069612/

এই ফেসিয়ালে ব্যবহার করা হয় ভরটেক্স প্রযুক্তির হাইড্রা মেশিন। এটির মেকানিজম ভ্যাকিউম ক্লিনারের মত। এটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বাতাস প্রবাহ করে ত্বক থেকে ময়লা টেনে তুলতে পারে।

হাইড্রা ফেসিয়াল মেশিনের মাধ্যমে ডিহাইড্রেটেড টিস্যু গুলোতে  সিরাম পৌঁছে দেওয়া হয় এই পদ্ধতির সাহায্যে। এর ফলে ত্বকের যেসমস্ত টিস্যু ডিহাইড্রেটেড হয়ে গিয়েছে সেগুলি হাইড্রেটেড হয়। 

Photo Credit 2 https://www.pexels.com/photo/close-up-of-a-man-getting-a-facial-treatment-by-a-cosmetician-16131206/

হাইড্রা ফেসিয়ালের উপকারিতা

হাইড্রা ফেসিয়ালটি যেকোনো ত্বকের জন্য মানানসই এবং তৎক্ষণাৎ কাজ করে৷ এটি ত্বকের গভীর স্তরে জমে থাকা ময়লা গুলোকে পরিষ্কার করতে পারে৷  এই ফেসিয়ালের মাধ্যমে ত্বক পায় ভিটামিন, প্রয়োজনীয় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ত্বককে রাখে আর্দ্র ও উজ্জ্বল এবং দূর করে বয়সের ছাপ।

কীভাবে করা হয় হাইড্রাফেসিয়াল

দক্ষ হাতে করা হয় হাইড্রাফেসিয়াল। বিশেষ মেশিনের মাধ্যমে অনেক গুলো ধাপে ফেসিয়ালটি করা হয়। হাইড্রাফেসিয়ালে প্রচুর পরিমাণে সিরাম ব্যবহার করা হয়। ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের হাইড্রাফেসিয়াল রয়েছে৷ যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে তারা নিতে পারে বিশেষ  হাইড্রা ফেসিয়াল, স্কিন গ্লো করতে আছে ভিটামিন সি হাইড্রা ফেসিয়াল,  স্কিন টোন বাড়াতে আছে হোয়াইটনিং হাইড্রা ফেসিয়াল। এগুলো ছাড়াও স্কিন টাইটনিংয়ের জন্য নিতে পারেন রেটিনল হাইড্রা ফেসিয়াল।

কত সময় লাগবে এবং কাদের জন্য উপযুক্ত 

যেহেতু হাইড্রা ফেসিয়াল কয়েকটা ধাপে করা হয় সেহেতু অন্যান্য ফেসিয়াল থেকে এটিতে সময় একটু বেশিই লাগবে। নয় থেকে দশ ধাপে এই ফেসিয়াল করা হয়। কখনো কখনো পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগতে পারে। 

সবাই চাইলে ত্বকের সুস্থতা জন্য হাইড্রা ফেসিয়াল করাতে পারে, এতে তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।  তবে প্রয়োজন অনুযায়ী করানো ভাল। আপনার যে সমস্যা সেই সমস্যার জন্যই হাইড্রা ফেসিয়াল করান।  অভিজ্ঞদের সাথে কথা বলুন, খোলাখুলি আলোচনা করুন এবং জানুন আপনার কোন ধরণের হাইড্রা ফেসিয়াল করানো উচিৎ।

বর্তমান সময়ে বোটক্স নামটি সবার কাছে বেশ পরিচিত হয়ে উঠছে। বোটক্স বলতে বোটক্স ইনজেকশনকে বুঝায়। হ্যাঁ, আপনি ঠিক ধরেছেন, এটা এক ধরনের ট্রিটমেন্ট যা ইনজেকশনের মাধ্যমে করা হয়। এই মুহূর্তে বোটক্স যে কারণে বেশি পরিচিত সেই কারণটি হচ্ছে, এটি আপনার বয়সের ছাপ কমিয়ে আপনার তারুণ্যকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তবে আপনার জেনে রাখা উচিৎ, এই বোটক্স শুধু মাত্র ত্বকের যত্নেই নয় বরং এটি ঘাড়ের খিঁচুনি, অত্যধিক ঘাম,  মূত্রাশয়, চোখের সমস্যা এবং বিভিন্ন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বোটক্স কী?

বোটক্স মূলত এক ধরনের টক্সিন বা বিষ। বোটক্স তৈরি করা হয় ক্লসট্রিডিয়াম বটোলিনাম থেকে। তবে এটি বিষ হলেও এমন ভাবে তৈরি করা হয় যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কর। বোটক্সকে এক ধরণের ট্রিটমেন্ট হিসেবে দেখা হয় যা বাজারে ইনজেকশন আকারে পাওয়া যায়। এটি একটি নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি যা আপনার মুখের বলি রেখা কমাতে সাহায্য করে। মুখের ত্বকের বলিরেখা মসৃণ করার পাশাপাশি এর রয়েছে আরও অনেক ব্যবহার। 

Photo Credit 1 https://www.pexels.com/photo/woman-holding-a-botox-bottle-14438368/

মুখের বলি রেখায় কীভাবে কাজ করে বোটক্স? 

বলা হয় বোটক্স আপনার বয়স কমিয়ে দিতে পারে। হ্যাঁ, আপনার আসল বয়স তো কমবে না, তবে আশা করা যায় চেহারায় বয়সের ছাপ দূর হবে। বোটক্স আপনার জন্য কতটা কার্যকরী এটা জানতে আগে আপনাকে বুঝতে হবে এটি কীভাবে কাজ করে। চলুন সহজে বিষয়টি বুঝানো যাক,

আমাদের বয়স বাড়ার সাথে আমাদের কপালে ও চোখের চারপাশে রিংকলেস বা বলিরেখা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন অভিব্যক্তিতে এগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠে। ধীরে ধীরে এই বলিরেখা গুলো আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠে।  প্রথম দিকে হাসিতে বা অন্য অভিব্যক্তিতে এগুলা প্রকাশ পেলেও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এবং এই রেখা গুলো আমাদের ইঙ্গিত দেয়, আমরা এখন বুড়ো হচ্ছি।  

যে পেশি গুলো এই রিংকলস গুলো তৈরি করে সেগুলো সাময়িক ভাবে দূর করে এই বোটক্স। বোটক্স এই পেশি গুলোকে সাময়িকভাবে শিথিল করে দেয়। 

মুখের সব দাগ মুছে দিতে পারে বোটক্স? 

অনেকের মনে একটি ভুল ধারনা থাকতে পারে যে বোটক্স ইনজেকশন নিলে হয়তো মুখের সব দাগ দূর হয়ে যাবে।  এটা ভুল ধারনা। বোটক্স ইনজেকশনটি কপাল ও দুই ভ্রুর মাঝের অংশ ও চোখের আশপাশের পেশিতে দেয়া হয়।  ফলে এটি চোখ এবং কপাল পেশির সংকোচনে বাধা দেয়। এটি কেবল বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। মুখের ত্বকের অন্যান্য দাগ যেগুলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে আসে, সেগুলো বোটক্সের মাধ্যমে দূর হবে না। 

বোটক্স ট্রিটমেন্ট পদ্ধতি

বোটক্স ইনজেকশন ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী যেকোনো সুস্থ ব্যক্তি নিতে পারে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেন ৩০ বছর বয়স থেকে এটি বেশি কাজ করে। বোটক্স কত দ্রুত কাজ করবে, ফলাফল কেমন হবে এটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থার উপর। বোটক্স ট্রিটমেন্ট এর ফলাফল সাত থেকে ১৪ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠে। এর প্রভাব চার থেকে ছয় মাস থাকে। 

বোটক্স একটি নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি হওয়ায় এতে অনেক বেশি ব্যথা বা অ্যানেস্থেশিয়ারও প্রয়োজন হয় না। ইনজেকশন পুশ করলে যেমন ব্যথা এমন হালকা ব্যথা অনুভব করতে পারেন আপনি। 

বোটক্স নেয়ার পূর্বে সতর্কতা 

আশা করি এতক্ষণে আপনি বুঝে গিয়েছেন এটি একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। সুতরাং আপনাকে অবশ্যই এটি নেয়ার পূর্বে সতর্ক থাকতে হবে। বোটক্স নেয়ার দুই সপ্তাহ পূর্ব থেকে অ্যাসপিরিন ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ সেবন করা বন্ধ করে দিতে হবে। অ্যালকোহল অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শারীরিক ভাবে আপনি বোটক্সের জন্য উপযুক্ত কিনা তা অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে  ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নেই।  

Photo Credit 2 https://www.pexels.com/photo/woman-getting-a-face-botox-3985311/

বোটক্স এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বোটক্স নেয়ার পর আপনার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সবার ক্ষেত্রে সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এক হবে এমনটি নয়। নেয়ার পর পর স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষত এবং ক্ষতের দাগ দেখা যাবে, চিন্তার কিছু নেই এটা একটা সময় পর এমনিতেই চলে যাবে। কারো কারো চোখের পাতা ঝিম ঝিম ও মাথা ব্যথা করতে পারে তবে সবার ক্ষেত্রে এমন হয় না। পেশি বা জয়েন্টেও ব্যথা অনুভব করতে পারেন। তবে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিলে আপনি যথেষ্ট নিরাপদ থাকতে পারবেন। 

কাদের জন্য বোটক্স নয়? 

বোটক্স আপনার তারুণ্য ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করলেও আপনাকে আগে নিশ্চিত হতে হবে আপনি এটার উপযুক্ত কিনা। আপনি বোটক্স নিতে পারবেন কিনা এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই ডাক্তার দেবে তবে বিশেষজ্ঞদের থেকে জানা যায় কারা এটির উপযুক্ত নয়। 

আপনার যদি নার্ভের কোনও অসুখ থেকে থাকে, ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা থাকে, মুখের আগে কোন সার্জারি হয়ে থাকলে এবং অন্তঃসত্ত্বা হলে আপনার এটি এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ। 

বোটক্স আপনার মুখের ত্বকের বলিরেখা দূর করে আপনাকে আগের মত প্রাণবন্ত এবং সতেজ করে দিতে পারলেও আগে থেকে জেনে নেয়া উচিৎ এটি আপনি নিতে পারবেন কিনা। সর্বোপরি আমাদের পরামর্শ হচ্ছে,  বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত কি হবে তা ঠিক করুন।

Spread the love
Share this:

Add Comment